Dairy

দেশি গাওয়া ঘি

ঘি হলো ভারতীয় উপমহাদেশে উদ্ভূত হওয়া এক ধরণের পরিশোধিত মাখন, যা দুধের ননী আলাদা করে জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী রান্নায় স্বাদ-গন্ধ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।
এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে, হাড়কে শক্তিশালী করে এবং ভিটামিন এ, ডি, ও ভিটামিন কে-এর মতো পুষ্টিগুণ সরবরাহ করে। ঘি ত্বক ও চুল ভালো রাখতে, ওজন কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক বলে বিবেচিত হয়।

প্রস্তুতপ্রণালী
লবণবিহীন মাখনকে চুলোয় জ্বাল দিয়ে ঘি প্রস্তুত করা হয়। প্রথমে পাত্রে মাখন নিয়ে জলটুকু বাষ্প হয়ে উড়ে না যাওয়া এবং প্রোটিনটুকু পাত্রের তলায় জমা না হওয়া পর্যন্ত তা জ্বাল দেওয়া হয়।
পরিশোধিত ও রান্না হওয়া মাখন চামচ দিয়ে তুলে নেওয়া হয়, যেন তা পাত্রের তলদেশে দুধের কঠিন অংশটুকুর জমাট বাঁধায় কোন বিঘ্ন না ঘটায়। ঘি ও মাখনের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য হল ঘি রেফ্রিজারেটরে না রেখেও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়,
তবে সংরক্ষণ পাত্রটি বায়ুরোধক হতে হবে (জারণ প্রতিরোধ করার জন্যে) ও আর্দ্রতা-মুক্ত হতে হবে। ঘি এর গন্ধ-স্বাদ এর প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হওয়া দুধ এবং জ্বাল দেয়ার সময়ের ওপর নির্ভর করে।
বাঙ্গালিরা গরুর দুধ থেকে তৈরি গাওয়া ঘি (গব্য ঘৃত) কে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ঘি বিবেচনা করে।

ঘির উপকারিতা
হজমশক্তি বৃদ্ধি:ঘি হজম ক্ষমতা বাড়াতে এবং গ্যাস, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
হাড়ের শক্তি:এতে থাকা ভিটামিন কে-২ হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়িয়ে হাড় ও জয়েন্টকে শক্তিশালী করে।
পুষ্টিগুণ:ঘি ভিটামিন এ, ডি এবং ভিটামিন কে সমৃদ্ধ, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য:ভিটামিন এ ও ফ্যাটি অ্যাসিড থাকার কারণে এটি ত্বককে আর্দ্র, মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে:ঘি পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা:এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।

কীভাবে ব্যবহার করা যায়
খাবার যেমন পোলাও, বিরিয়ানি, ভর্তা বা ভাতের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
সকালে খালি পেটে গরম জলের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
আয়ুর্বেদে এটিকে ‘সুপার ফুড’ বলা হয় এবং কালো কফির সাথে মিশিয়েও অনেকে খান।

সতর্কতা
অতিরিক্ত ঘি খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা বাড়তে পারে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ঘি-তে থাকা ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *